ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, কোনো সাংবাদিককে তার দায়িত্ব পালনের জন্য সরাসরি যেন গ্রেপ্তার করা না হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে। মিথ্যা সংবাদ দেওয়ার অভিযোগ হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করবে কিন্তু কোনো গ্রেপ্তার করবে না। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজগুলো তুলে ধরে প্রশংসা প্রত্যাশা করেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। ভালো কাজের প্রশংসা হলে উৎসাহ পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করেছি। প্রধান আলোচনাই ছিল যে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কীভাবে আরো উন্নত করা যায়। তিনি বলেন, আমরা হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলে দেখতে পেয়েছি, প্রশ্ন করার অপরাধে কীভাবে মানুষের প্রতি জুলুম করা হয়েছে এবং চাটুকারবৃত্তি একেবারে সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিল। কাজেই আমরা বলেছি, সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার যেন খর্ব করা না হয়। সাংবাদিকরা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যারা থাকবেন, তাদেরকে যেমন প্রশ্ন করবে, তেমনি বিরোধী দলকে প্রশ্ন করবে। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা আরেকটি কথাও বলেছি যে, যদি কোনো সাংবাদিক ফৌজদারি অপরাধ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সরকার অ্যাকশন নিতেই পারে। কারণ, ফৌজদারি অপরাধ আর সাংবাদিকতা এক জিনিস নয়। কাজেই ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার তার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়া কমিশনটা খুব দ্রুত করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।’ এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক শফিক রেহমান ও অন্য সদস্যরা। তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রেস কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন, সেখানে সঠিক মানুষকে পাঠানো প্রয়োজন। সেখানে যেন মেরুদণ্ডহীন মানুষকে আর পাঠানো না হয়, সে দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসট্রাস্ট পুনরুজ্জীবনের জন্য বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার চারটা পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর মধ্যে টাইমস বাংলা ট্রাস্ট যেটা ছিল, এটাকে পুনরুজ্জীবন করতে আমরা বলেছি। তাতে করে দৈনিক বাংলা, বিচিত্রা-এই পত্রিকাগুলো যদি আবার চালু করা যায়, তাহলে অনেক সাংবাদিকদের চাকরির সুযোগ হবে।
এসময় গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনে আমিও সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচারের শিকার হয়েছি। সেসব আমি সয়ে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারকে সময় দেওয়ার আহবান জানিয়ে সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাত্র ৫ মাস হয়েছে। সব সেক্টরে আমরা মাইনাস থেকে শুরু করেছি। একটু সময় দেন। দেশ পুনর্গঠনে একটু সহযোগিতা করুন। প্রতি চার মাসে একবার এনইসি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মিলিত হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ইউংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম এবং মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।