সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাযায় হাজারো শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছিল। শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন এই প্রবীণ আলেমেদ্বীন।
গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র পুত্র নাজমুস সাকিব চৌধুরী।
জানাযায় কানাইঘাট জকিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার শোকাভিভূত মানুষজন ছাড়াও সিলেট নগরীর শত শত মানুষ অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে জানাযায় শরীক হোন। জানাযা পরে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ক্যাম্পাসে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
জানাযা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সংসদ সদস্য এটিএম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি
জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
জানাযায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, কানাইঘাট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেশ কিছুদিন আগে তাকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দিকে তিনি মারা যান।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি আশি নব্বই দশকে দীর্ঘদিন সিলেট জেলা জামায়াতের আমীরের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার ইন্তিকালে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর শোক
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও প্রখ্যাত আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
গতকাল শনিবার এক শোকবার্তায় মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট অঞ্চলের মানুষের এক পরম শ্রদ্ধেয় অভিভাবক। শিক্ষা বিস্তার, দ্বীনি দাওয়াত ও সমাজসেবায় তার অনন্য অবদান এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। তার মৃত্যুতে আমরা একজন নিবেদিতপ্রাণ জননেতা এবং প্রাজ্ঞ আলেমকে হারালাম, যা দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
মন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মকামে স্থান দান করেন এবং তার পরিবারকে এই কঠিন শোক সহ্য করার ধৈর্য দান করেন।