দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। জেলার পাঁচজন সংসদ সদস্য তাঁদের এক মাসের মূল বেতন এবং জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এক কার্যদিবসের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদান করবেন।

রোববার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় নিজের এক মাসের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক দিনের মূল বেতন ত্রাণ তহবিলে প্রদানের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাঁর এ প্রস্তাবে তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি জানান জেলা প্রশাসক এবং সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা।

পরে জানা যায়, গাজীপুরের অন্য চার সংসদ সদস্যও এই মানবিক উদ্যোগে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এবং গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী তাঁদের এক মাসের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকায় তিনি জেলা প্রশাসনের সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় তিনি নিজের এক মাসের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন এবং এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের এক দিনের মূল বেতন প্রদান করবেন। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সমন্বয়ে এ অর্থ সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই গাজীপুর জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত এই সহায়তা বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি। গাজীপুরের এই উদ্যোগ অন্য জেলাগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।