কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের চার দিনের মাথায় অবশেষে মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে মামলায় আটককৃত তিনজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা তিন আসামিকেই ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিঠামইন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখিত তিন আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলার পর স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরো জানা গেছে নিহত বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর এর প্রথম নামাজে জানাজা বৃহস্পতিবার রাতের বেলায় কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং কাঠ বাজার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের জানাজায় অংশ নেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা অ্যাডভোকেট রুকন রেজা শেখসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় মানুষ।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আর নতুন করে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি তবে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানা গেছে।