বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ আজ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে।
আজ ১৯ জুন (শুক্রবার) রাজবাড়ী জেলা রুকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য পরিবার তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব, দুর্নীতি এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য গৃহীত প্রস্তাব স্থগিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনগণের জীবন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় হতে পারে না। যখন সীমান্তে রক্ত ঝরছে এবং একের পর এক পুশইনের ঘটনা ঘটছে, তখন এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল সময়ের দাবি।
তিনি অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি যথাযথভাবে উত্থাপন এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী বিজিবি সদস্য ও সচেতন সীমান্তবাসীর প্রতি তিনি অভিনন্দন জানান।
রুকনদের উদ্দেশ্যে ড. হামিদ আযাদ বলেন, প্রত্যেক রুকনকে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন ও উন্নত চরিত্র গঠন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে হবে। সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শকে নিজেদের আচরণের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, দাওয়াতি কাজ, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
রুকন শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর অঞ্চল টিম সদস্য শামসুল ইসলাম আল বরাটি, রাজবাড়ী জেলা আমীর অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, নায়েবে আমীর হাশমত আলী হাওলাদার, জেলা সেক্রেটারি মো. আলিমুজ্জামান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি হারুন অর রশিদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।