শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এটা আইনি ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার। সরকারই তার দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছে। সরকারই সিদ্ধান্ত নিবে। স্বৈরাচার সরকার জুলাই-আগস্টের সময় সাধারণ মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, হত্যাকান্ড চালিয়েছে, মৃত দেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। এমনকি হেলিকপ্টারে করে দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলী করে হত্যা করেছে। সে ক্ষতচিহ্ন এখনো শুকায়নি। তারা যে অন্যায় করেছে তাদের বিচার হতে হবে, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বৈরাচারী সরকার সংবিধান মানেনি, তাদের মধ্যে মানবিকতা ছিলনা। স্বৈরাচারী সরকারকে জনগণ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার হবে কি হবে না এটা এখন জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে। এটা কোনো দলের একার সিদ্ধান্ত না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বলে, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মানেনা। গণভোটের রায় এটাই প্রমাণ করেছে।

তিনি গতকাল শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দলের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দিলীøতে আশ্রয় পেয়েছেন, এ দেশের রাজনীতির যত গন্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবেনা, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি সব কিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো ওনারাই করছেন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, বন্দি বিনিময় আইন, জেনেভা কনভেনশন, সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীকে সবধরণের প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা ব্যবহারসহ আরাম আয়েশে দিলীøতে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির উচিত দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, শপথ গ্রহণ করা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করা। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।

নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো: ইব্রাহিম ভূঞার সভাপতিত্বে সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য মশিউল আলম প্রমুখ। এর আগে নরসিংদী জেলার সদস্যদের (রুকন) নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।