বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ৫৫ বছরেও শ্রমিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি, শ্রমিক তার অধিকার আদায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের পাশে সামিল হয়ে জীবন দিয়েছে, এ আন্দোলন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।
নৌ সেক্টর কর্তৃক আয়োজিত , নৌ শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।
গতকাল ২৭ জুলাই সোমবার সকালে রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, নৌ-শ্রমিকদের সম্মানজনক মজুরি, নিয়োগপত্র প্রদান এবং নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নৌযান সেক্টরের উদ্যোগে সেক্টর সভাপতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিম এর সভাপতিত্বে এবং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও নৌ সেক্টরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, নৌযান সেক্টরের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান, দোকান-কর্মচারী শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নৌ সেক্টরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইকবাল, ঢাকা মহানগর উত্তর নৌ সেক্টরের সভাপতি ওসমানগণী সহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যেআতিকুর রহমান বলেন জুলাই বিল্পবে তিন শতাধিক শ্রমিক শহীদ হয়েছেন এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা শিগগিরই জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষ নানামুখী বৈষম্যের শিকার। নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অধিকাংশ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মজুরি বোর্ড, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, চাকরির বিধিমালা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশনিং ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক নেতাদের উন্নয়ন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি, এ জন্য শ্রমিক নেতৃত্বেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনীতি ও গণমাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না। রাজনৈতিক টকশো ও আলোচনা যতটা হয়, শ্রমিকদের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে ততটা আলোচনা দেখা যায় না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি গণমাধ্যমে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে নৌ-শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন, নিয়োগপত্র, চাকরির বিধিমালা, পরিচয়পত্র, নাবিক কল্যাণ তহবিল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নৌপথে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিদ্যমান বাধা দূর করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে সব সেক্টরের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তিনি।
জুলাই সনদ ও শ্রম সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব না করার আহ্বান জানিয়ে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় শ্রমিক জনতা গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।