ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদ ও চেয়ারম্যানকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।

এই সিদ্ধান্তকে দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ‘সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৫ জুন) এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছিল এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর ছিল। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গত ১০ জুন এবিবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান পুরো খাতের জন্যই মঙ্গলজনক বলে মনে করছে এবিবি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে বলে প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি।

ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক, বিশাল আমানত ও বিনিয়োগের ভিত্তি, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে বড় ভূমিকা থাকায় ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা সরাসরি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটিকে ঘিরে ‘বিশৃঙ্খল ও উগ্র জনতার প্রতিবাদ’ সুশাসন ও তারল্য সংকটের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল।

বিবৃতিতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবিবি আশা প্রকাশ করে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে ইসলামী ব্যাংকে এখন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে।

একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে ‘মব’-এর প্রভাবকে শিল্পের জন্য ‘অমঙ্গলজনক সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।