মুষলধারে কথা
তাজ ইসলাম
এবং তিনি একজন প্রথিতযশা কবি ছিলেন।
নাম তার আল মুজাহিদী।
ষাটের দশক থেকে কবিতার দাঁড় টেনে টেনে নিজের সচল
শব্দ স্রোত পৌঁছে দিলেন ২০২৬ এর তরুণ ভোরে।
তিনি বর্ষীয়ান কবি
অন্যতম তার উপযুক্ত অলংকার।
তার যে জীবন সে জীবনে তিনি বৃক্ষ হয়ে গিয়েছিলেন।
যে বৃক্ষের ছায়ায় এসে ভিড় জমাতো তরুণ তরুণ শব্দপাখিরা।
তিনি দশক দশক জুড়ে শব্দপাখিদের কলকাকলি
ছড়িয়ে দিতেন ছাপার হরফে।
তার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে যতনে পরিচর্যায় এখন
অনেকে প্রথিতযশা কবি ও কথাকার।
তারা কৃতঘœ না হলে তার নামে গাইবে নিশ্চয়ই গান।
তিনি কালের জীবন্ত সাক্ষী
এবং বাংলাদেশ জন্মের সশস্ত্র সৈনিক।
একটি দেশ, একটি পতাকা নিয়ে এসেছিলেন
এদেশের মাটির সন্তানের জন্য।
স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই জারি রেখে ছিলেন কদমে কদমে।
মাটি লগ্ন উচ্চারণে নির্মাণ করতেন তার নিজের কবিতা।
শব্দপাখি হয়ে গেয়েছেন অবিরাম গান।
ছিলেন বর্ষীয়ান কবিপুরুষ
তার নামের হরফগুলো জ্বলজ্বল করে ভাসত
স্বতন্ত্র পাঠেই চেনা হয়ে যেত
কবি আল মুজাহিদী নামের সৌরভ।
বক্তৃতার মঞ্চে ভরাটকণ্ঠ অনলবর্ষী
মাইক্রোফোনে পড়তো মুষলধারে কথা।
কথার তন্ময়তায় নেমে আসতো নীরবতা
হলভর্তি কান তখন খাড়া হয়ে যেত।
আল মুজাহিদী তর্জনী উঁচিয়ে
কবি ও কবিতার তরজমা তুলে দিতেন সম্মুখের সমস্ত হাতে।
কবিতার পৃষ্ঠা খুললেই বাংলাদেশ পেয়ে যাবে কবি আল মুজাহিদীকে।
হেমলকের পেয়ালার কবিকে
এম এ ওয়াজেদ
প্রেমের মিনারে জমিয়ে রাখা শ্রদ্ধার পুষ্পগুলো
রোপণ করেছি এই রক্তমাটির দুঃখচত্বরে
বেদনার নক্ষত্ররজনি আঁধারের বুক চিরে
কোরাসে গেয়ে ওঠে আনন্দলোকের সৃষ্টি সংগীত
হে হেমলকের পেয়ালার কবি-
শ্রদ্ধার স্নেহবারিতে সিক্ত হোক তোমার সমাধিগৃহ।
তোমার “ধ্রুপদ ও টেরাকোটা “অথবা
“নীলিম নীলিমা “মাঝে” যুগান্তরের যাত্রী “ সব
খুঁজে পায় ‘সূর্যের পতাকা লাল’ আর পায়
এই মাটির শ্বাসনালির নিঃসৃত অক্সিজেন
তোমার ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’
রুখে দ্যায় পৃথিবীর ভূখ-ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন
আমাদের গাঢ়নিদ্রার ‘মৃত্তিকা, অতি মৃত্তিকা’ তলে
দোয়েল পাখিরা গেয়ে যায় ‘যুদ্ধ নাস্তি’ গান
মৃত্তিকার দূষিত সরোবরে ফুটে থাকা শাপলাগুলো
খুঁজে ফিরে তোমার আলোকবেদী ল্যাপটপ
আত্মজাত প্রজ্ঞাশব্দরেণুর দ্রাঘিমারেখায়
হে কবি আমাদের আত্মজাগরণ আজ শুভ হোক।
এই বিষণ্নতা
সুমাইয়া আক্তার
অদৃশ্য কার্ণিশে তোলা থাক,
যেমন থাকে সিন্দুক-বন্দী স্মৃতির ছায়া-
যেদিন লোকালয় থেকে বহুদূরে,
একাকী, নীরব কদমগাছের মূলে
মাটি হবে এই জীবনের শেষ কবিতা,
সেদিন মুক্তি পাবে সে।
তার আগে, তাকে নিভৃতে ঘুম পাড়িয়ে রাখি-
অপেক্ষা শুধু শেষ যাত্রার।
একটি চিঠির অনুরোধ
মাহিব মোস্তাকিম
বেশ কয়েকদিন পর তোমাকে একটা চিঠি লিখবো,
চিঠিটাকে তুমি হেলায় ফেলো দিয়ো না।
বিশ্বাস করো, পারস্যের সম্রাট যে দরদমাখা ভাবে লিখেছিলো
আওরঙ্গজেব এর মেয়ে জেব্রুন্নেসাকে তার চেয়ে ঢের ভালো হবে।
রুশে প্রতিনিয়ত ঠান্ডায় মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাওয়া
জার্মান সৈন্য যে আকুতি করে লিখেছিলো
চিঠি তার বাল্যকালের প্রেমিকাকে,
তার চেয়েও অনেকগুণ ভালো হবে।
প্লিজ, তুমি চিঠিটাকে খণ্ড বিখণ্ড করে ফেলো না।