স্পেন জাতীয় ফুটবল দল ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ধর্ম নিয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠেছেন।

লামিন ইয়ামালের বাবা মরক্কোর নাগরিক, যেখানে ইসলাম প্রধান ধর্ম। অন্যদিকে, তার মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা। পারিবারিকভাবে মুসলিম হওয়ায় ইয়ামালও ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন বলে জানা যায়।

মাত্র অল্প বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন এই ফুটবলার। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ বাড়ছে।

শৈশবে মেসির কোলে থাকা এবং তাকে গোসল করানোর সেই বহুল আলোচিত ছবিটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে মাঠের এই লড়াইয়ের বাইরেও মুসলিম বিশ্বে লামিন ইয়ামালকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা এক আগ্রহ, যা শুধু তার ফুটবল নৈপুণ্যের কারণে নয়।

মাত্র অল্প বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন লামিন ইয়ামাল। অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০০৭ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া লামিন ইয়ামালের পুরো নাম লামিন ইয়ামাল নাসরাউই ইবানা। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর নাগরিক এবং মা শেইলা এবানা বিষুবীয় গিনির বাসিন্দা। পারিবারিকভাবে উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে তার এই সংযোগ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম সমর্থকদের মধ্যে তাকে নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাকে নতুন প্রজন্মের মুসলিম ফুটবল আইকন হিসেবেও দেখেন।

মুসলিম বিশ্বে ইয়ামালকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের পর। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করার পর বার্সেলোনা শহরে অনুষ্ঠিত বিজয় শোভাযাত্রায় হাজারো সমর্থকের সামনে লামিন ইয়ামালকে দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়। মুহূর্তটির ভিডিও ও ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ইয়ামালের উপস্থিতিকে অনেক সমর্থক ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম সমর্থকদের মধ্যে ঘটনাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ ঘটনার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা উসকে দেয়ার’ পথ বেছে নিয়েছেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে কাটজ লেখেন, ‘বার্সেলোনার মতো বড় ও সম্মানিত একটি ক্লাব এই মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে রাখবে বলে আশা করি। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করবে যে উসকানি কিংবা সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের কোনো জায়গা নেই।’

এর জবাবে সরাসরি ইয়ামালের পাশে দাঁড়ান সানচেজ। ইসরায়েলের গাজা অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী আগেও এই যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এক্সে তিনি লেখেন, ‘‘যারা মনে করে কোনো রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ‘ঘৃণা ছড়ানো’, তারা হয় বাস্তববোধ হারিয়ে ফেলেছে, নয়তো নিজেদের লজ্জায় অন্ধ হয়ে গেছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘লামিন শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছে, যা লাখো স্প্যানিয়ার্ড অনুভব করে। তাকে নিয়ে গর্ব করার এটি আরও একটি কারণ।’ তার এই বক্তব্যও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।

ফলে ইয়ামালের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাটি শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামাজিক আলোচনারও অংশ হয়ে ওঠে।

এসব আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যেও মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি ইয়ামালের। বরং স্পেনের হয়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তরুণ উইঙ্গারকে।