আজ শনিবারের আনুষ্ঠানিকতায় কয়েক কোটি মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির লাশ গতকাল শুক্রবার রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে পৌঁছেছে। আজ শনিবার তার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আজ শনিবারের আনুষ্ঠানিকতায় কয়েক কোটি মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একইসাথে ইরানের প্রধান আলোচক দেশবাসীকে খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকারে ব্যাপকভাবে জানাজায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন বহন করে শোকাহত মানুষজন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাচ্ছেন। এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানস্থল। আরো কিছু ছবিতে কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত মানুষের ভিড়ের মধ্যে লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজসজ্জার সামনে কফিন রাখা অবস্থায় দেখা যায়।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদি ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম জনসমক্ষে এসে কফিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ইরানি গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখা যায়। যুদ্ধের তীব্রতার কারণে প্রথমে পিছিয়ে দেয়া হলেও এখন খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিও কার্যকর রয়েছে। এএফপি, এপি, মিডল ইস্ট আই, আল জাজিরা, রয়টার্স।
শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদায় অনুষ্ঠান। আনুষ্ঠানিকতা তার নিজ শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
কোন দিন কোথায় কী
নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। খামেনির দাফনের জন্য প্রথমে চলতি বছরের মার্চ মাসে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরে তা স্থগিত করা হয়। যুদ্ধের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি বাসভবনে বোমা হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে খামেনি নিহত হন।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কে ছিলেন?
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক নেতা ছিলেন খোমেনি। অন্যদিকে সেই বিপ্লবের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি। খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হয়েছেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তার শাসনামলের শুরুতেই এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শিয়া শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ইরাকের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। খামেনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেন। পাশাপাশি বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় অর্থনৈতিক দুর্দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন।
সাত দিনব্যাপী দাফনের আনুষ্ঠানিকতা
খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয়েছে। এটি ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পণ্ডিতরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
৪ ও ৫ জুলাই
৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বজনীন শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। সর্বসাধারণকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের লাশসহ খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। বিশাল জনসমাগমের জন্য নির্মিত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহত্তম প্রার্থনাস্থল। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৬ ও ৭ জুলাই
৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের উদ্দেশে বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। খামেনিসহ হাজার হাজার আলেম এ শহরে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করেছেন।
৮ জুলাই
ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮ জুলাই নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নজফের ইমাম আলীর মাজার শিয়াদের অন্যতম পবিত্র স্থান। প্রতি বছর সেখানে লাখো তীর্থযাত্রী আসেন। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী ইবনে আবি তালিবের কবর রয়েছে।
কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসাইন ও তার সৎভাই আব্বাসের মাজার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এবং আব্বাস শহীদ হন। এ ঘটনাটি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।
৯ জুলাই
এরপর লাশটি চূড়ান্ত দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের পবিত্রতম শহর। ইমাম রেজা শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে অষ্টম ইমাম হিসেবে পরিচিত। শহরটি আলি খামেনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ সেখানে কাটান। কোমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে তিনি মাশহাদের ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়ন করেছিলেন।
শহীদ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাযায় অংশ নিচ্ছেন যেসব বিশ্বনেতা
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। গতকাল শুক্রবার তেহরানে শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।
সাত দিনের শোকানুষ্ঠান
প্রাথমিকভাবে মার্চে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। তেহরানে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর টানা সাত দিন ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে জানাজা, শোকযাত্রা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার ও রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার শোকযাত্রা ইরানের কোম শহরের দিকে যাবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর নাজাফ ও কারবালায় শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে লাশ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে আগামী শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। মাশহাদেই জন্ম হয়েছিল খামেনির।
যেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান থাকছেন
রাষ্ট্রীয় জানাযায় অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা।
পাকিস্তান : প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানাজায় অংশ নেবেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং জুনের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নেও ইসলামাবাদের ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাজিকিস্তান : প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান উপস্থিত থাকবেন।
আর্মেনিয়া : প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
জর্জিয়া : প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলিও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
যেসব দেশ পাঠাচ্ছে জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি
তুরস্ক : দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ অংশ নেবেন।
ভারত : ভারতের প্রতিনিধিদলে থাকছেন বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও প্রতিনিধিদলের সদস্য।
চীন : চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই বেইজিংয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
রাশিয়া : দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানাজায় অংশ নেবেন।
আফগানিস্তান : তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। এছাড়া উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আফগান গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বাংলাদেশ : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রীয় জানাযায় অংশ নিতে তেহরানে যাচ্ছেন।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় জানাযা
ইরানের কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাযাগুলোর একটি হবে। ১৯৮৯ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষের উপস্থিতির রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের আয়োজন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেবেন না বলে তার ভারতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন। ইসরাইলের সাম্প্রতিক হত্যার হুমকির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে খামেনির জানাজার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা (ইসরাইল)কে যেকোনো ভুল হিসাব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’
বাবার আনুষ্ঠানিকতায় থাকছেন না সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের মরহুম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় তাঁর ছেলে দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি উপস্থিত থাকছেন না। গত বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত তাঁর প্রতিনিধি এমন তথ্য দিয়েছেন।
ওই প্রতিনিধি বলেছেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যা করা হবে বলে ইসরাইলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি) খামেনি নিহত হন। খামেনিকে প্রথমে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়।