জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের পর্দানশীন নারী এমপিদের নিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর অনমাননাকর বক্তব্য প্রদান ও সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা।

আজ সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জবি ছাত্রীসংস্থা সভানেত্রী ও জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা: সুখীমন খাতুন বলেন, মহান জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক কর্তৃক বিরোধীদলীয় নারী সদস্যদের পর্দা নিয়ে কটুক্তিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পোশাকের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত, তবুও দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার একজন সদস্য এমন বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তার নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অব্যাহত শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে কিন্তু এর যথাযথ বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মানববন্ধনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে অবিলম্বে তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

২. সংসদের মর্যাদা ও সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

৩. নারীকে তার পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে নয়, একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

৪. সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার, কার্যকর প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ অধিবেশনে চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার মনিরুলের বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার ঘোষণা দেন।