২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে এটি একটি অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক চিত্র। আজ ২ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মূল পরিসংখ্যান ও বোর্ডের হিসাব

মোট শিক্ষার্থী ও ফরম পূরণ: ২ বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে) একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখের মতো শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে ছিটকে গেছেন।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে প্রায় ৩৩.০৪% নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি (গত বছর এই হার ছিল প্রায় ২৭%)।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: আলিম পরীক্ষায় প্রায় ৪৪.০৭% নিয়মিত শিক্ষার্থী অংশ নেননি (গত বছর ছিল প্রায় ৩৯%)।কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র কারিগরিতে, যেখানে ৫৪.৫৮% নিয়মিত শিক্ষার্থী ফরমই পূরণ করেননি (গত বছর ছিল প্রায় ৪০%)।

গত বছরের সাথে তুলনা: গত বছর (২০২৫ সালে) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। এক বছরের ব্যবধানে এই অনুপস্থিতির হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

অনুপস্থিতি ও ঝরে পড়ার সম্ভাব্য কারণ

শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুসারে শিক্ষার্থীদের এই বিশাল অংশের অংশ না নেওয়ার মূল কারণগুলো হলো:

প্রস্তুতির অভাব: অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় স্বেচ্ছায় ওই বছর পরীক্ষা না দিয়ে পরবর্তী বছরের জন্য রেখে দেয়।অর্থনৈতিক সংকট: অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে অনেক পরিবার পড়াশোনার খরচ চালাতে না পেরে সন্তানকে কাজে যুক্ত করে দেয়।

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ: এসএসসি পাসের পরই অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ছেড়ে দ্রুত উপার্জনে বা কর্মক্ষেত্রে ঢুকে পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

বাল্যবিবাহ: বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে করোনা পরবর্তী সময়ে এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি পাওয়া অন্যতম কারণ।

উল্লেখ্য, নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছেন।

শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে কেন এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে তারা একটি বিশেষ গবেষণা বা জরিপ পরিচালনা করবে।