বিশ্ব ব্যাংকি ব্যবস্থা শুরু হয় খ্রীস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৩০০০ অব্দে প্রাচীন মেসোপোটেমিয়া ব্যাবিলন ও মিশর পরবর্তীতে প্রাচীন গ্রীস,রোম এবং চীনে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় কে কেন্দ্র করে মূল্যবান ধাতু,স্বর্ণ,রূপা গরু ছাগল বিভিন্ন শষ্য পুরোহিতের নিকট জমা রাখতো চোর ডাকাতের ভয়ে।জমাকৃত জিনিসপত্র পুরোহিতরা অভাবগ্রস্থ দের বিভিন্ন শর্তে ঋণ প্রদান করতো।এরপর রোমান সম্রাজ্য ব্যাংক ব্যবস্থাকে মন্দির থেকে বের করে পেশাদার জনবলের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরে ব্যাংকের প্রসার ঘটায়।

১৪৭২ সালে ইতালিতে বাঙ্কা মোন্তে প্যাসকি দি সিয়েনা (Banca Monte dei paschi di siena) বিশ্বের প্রথম এবং প্রাচীন ব্যাংক যা এখনো নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ১৬৯৪ সালে Bank of England) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক ব্যাংকের ধারণা প্রদান করা হয়।বাংলাদেশে আধুনিক ব্যাংকি ব্যবস্থা শুরু হয় ১৯৪৬ সালের ঢাকা ব্যাংক (Dacca Bank) নামে ঢাকায় অবস্থিত ছিলো,এর ব্যবসায়ী কার্যক্রম ছিলো সীমিত এবং কোন নোট ইস্যু করতোনা।

১৯৭১ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে পাকিস্তান আমলের দশটি অবাঙালি মালিকানাধীন ও দুটি বাঙালি মালিকানা বানিজ্য ব্যাংক কে একীভূত ও জাতীয়করণ করে ৬টি সরকারি ব্যাংক কে রূপান্তর করে। ১৯৭০ দশকের শেষ দিকে (OIC) পররাষ্ট্র সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামি পদ্ধতিতে ব্যাংক ব্যবস্থার সিদ্ধান্তে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম শরীয়াহ ভিত্তিক বানিজ্য ব্যাংক হিসেবে ১৯৮৩ সালে ১৩ মার্চ ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে এই ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৫৬% এরপর শীর্ষে আছে ব্রাক ব্যাংক।গত মে মাস ২০২৬ এককভাবে ইসলামি ব্যাংক পিএলসি রেমিট্যান্স এনেছে ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার।কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক ব্যাবস্থা ঝুঁকিতে রয়েছে বিভিন্ন কারণে।দেশের অর্থ পাচার সহ ঋণ খেলাপী ভুয়া বানিজ্য ব্যাংকের বেহাল অবস্থা। বর্তমানে ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা রাষ্টয়াত্ত এবং বেসরকারি ২৪ টির বেশি ব্যাংকে মূলধনের বিশাল ঘাটতি।ইসলামি ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। সংস্থার ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরাতে বিশ্ব ব্যাংক ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঋণ প্রদান করেছে।দেশের অর্থনীতিবিদরা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্যাংকি কমিশন গঠনের কাজ করছে।বর্তমান বাংলাদেশের ঋণ খেলাপির হার ৩২% শতাংশ।তীব্র তারল্য সংকটের জন্য গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেনা। বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক সহ এমন অনেক ব্যাংক। এই সংকট নিরসনের জন্য সরকার পদক্ষেপ নিলেও সুনির্দিষ্ট ধারণার অভাবে কোন আইন কার্যকর হচ্ছে না। বাংলাদেশের ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয় যা অন্তবর্তীকালীন সরকার শ্বেতপত্র কমিটিতে তুলে ধরেছে। ২০১৩-২০২২ ভুয়া বানিজ্যের আড়ালে আমদানি রপ্তানি দেখিয়ে ৬৮.৩ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়। সরকার এই উত্তাল পরিস্থিতিতে ধৈর্য সহকারে অর্থনীতিবিদদের মতকে গ্রহণ করে দেশের ব্যাংক ব্যাবস্থাকে স্থিতিশীল ও কার্যকর অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন এমনটাই আমরা আশাবাদী।