রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আহতদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় । এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৩ জনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল শনিবার বিকেলে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন জানান, বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন থেকে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অব্যাহত রেখেছে। কিছুদিন আগে তারা তালাবদ্ধ করে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। তখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুরোধে পাশে দাঁড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তিনি আরও বলেন, আজ স্থানীয় জামায়াত ফুলবাড়িয়ায় সন্ত্রাস চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করে। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জড়ো হলে বিএনপি’র সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল পাঁচটার দিকে গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া ফ্লাই ওভারের নিচে জামায়াতের কয়েকশ নেতাকর্মী জমায়েত হয়েছিলেন। এসময় কতিপয় সন্ত্রাসী লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজননের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বংশালের মামুন কমিশনার, যুবদলের রনজু, বিএনপির ডালিম, সুটার মনা, আওয়ামী লীগ নেতা (বর্তমান বিএনপি) হানিফ, মালেক ও জুয়েলসহ শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালায়। কয়েকজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। অনেকের হাতে পিস্তল, হকিস্টিক ও ছুরি এবং দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা কোনো তর্কবিতর্ক ছাড়াই জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে।

ছুরিতে আহত কবির আহমেদ (৪৫) নামে আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস কাউন্টারের সামনে আহত অবস্থায় পেয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কবির বলেন, তিনিও একই মার্কেটে ব্যবসা করেন। তিনি বলন, আমি দূর থেকে দেখলাম- কবিরকে কয়েকজন লোক এসে পেছন থেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানিয়েছে, আহতদের দেখতে রাতে হাসপাতালে যাবেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যবৃন্দ। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেইটে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।